সানা বিমানবন্দরে সৌদি হামলার কারণ সম্পর্কে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা শেষে হুথি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী একটি ইরানি বিমানকে (মাহান এয়ার) অবতরণে বাধা দেওয়ার জন্যই মূলত রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল আগেই তেহরান থেকে সানায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল, কারণ হুথিরা আইনি ও সার্বভৌম কাঠামোর বাইরে গিয়ে এটি পরিচালনা করতে চেয়েছিল। অবতরণে বাধা পেয়ে বিমানটিকে পরবর্তীতে হোদেইদা বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সানা বিমানবন্দর থেকে রোগী ও আটকে পড়া নাগরিকদের বহনকারী মানবিক ফ্লাইটগুলোর চলাচল বন্ধ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই হামলাকে ‘উত্তেজনা প্রশমনের’ পর্বের সমাপ্তি বলে আখ্যায়িত করেন।
এই ঘটনার পর হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। হুথি মুখপাত্র জানিয়েছেন, সানা বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই সতর্কতা বহাল থাকবে।
জবাবে ইয়েমেনে বৈধতা পুনরুদ্ধারে নিয়োজিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আওতাধীন সকল বিমানবন্দর অবিলম্বে বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল তাহের আল-আকিলি ইয়েমেনের আকাশসীমায় যেকোনো শত্রু বিমানের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইয়েমেনে যে আপেক্ষিক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল, তা এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি এবং ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, ইয়েমেন এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল উত্তেজনার নতুন কোনো চক্র সহ্য করতে পারবে না। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গঠনমূলক সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: এপি নিউজ
বার্তা নিউজ/পিআরএএন














