মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলার এজাহার (এফআইআর) গ্রহণ করে এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এই আদেশের মাত্র একদিন আগে, অর্থাৎ সোমবার (২০শে অক্টোবর), ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করার যুগান্তকারী আদেশ দেন।
আদালতের সেই আদেশের পর সোমবার মধ্যরাতেই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজ ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। তার মৃত্যুর পর, পিতা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে, ১৯৯৭ সালের ২৪শে জুলাই তিনি আদালতে অভিযোগ করেন যে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলাটিকেই হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান।
এরপর গত ২৮ বছরে মামলাটি একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরেছে। সিআইডি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তে সালমান শাহর মৃত্যুকে 'হত্যা' নয়, বরং 'আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেই সালমান শাহর পরিবার নারাজি আবেদন করে আপত্তি জানায়।
মামলার সর্বশেষ তদন্ত সংস্থা ছিল পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের ৩১শে অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
পিবিআইয়ের সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ২০২২ সালের ১২ই জুন মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। বিভিন্ন কারণে কয়েক বছর শুনানি না হলেও সম্প্রতি সেই রিভিশন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। গত ১৩ই অক্টোবর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আদেশের জন্য ২০শে অক্টোবর দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনেই আদালত অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন, যা এই দীর্ঘদিনের পুরনো মামলাটিকে নতুন মোড় দিলো।
বার্তা নিউজ/এএমটি














