ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্য দিবালোকে একদল মানুষের উপস্থিতিতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, অথচ কেউ তাতে বাধা দিচ্ছেন না। বরং অনেককে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে খেজুরতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে কাঁদছেন প্রবাসী রফিকুলের ষাটোর্ধ্ব মা আয়েশা খাতুন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ছেলের অপরাধের শাস্তি দাবি করলেও তার স্বামীর হাতে তৈরি করা বাড়িটি না ভাঙার জন্য তিনি বারবার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের বৈবাহিক জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছিল। একই গ্রামের সোনিয়া খাতুনের সঙ্গে তার কয়েকবার বিয়ে ও বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে পারিবারিকভাবে একই গ্রামের রীমা খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। সম্প্রতি এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, রফিকুল গোপনে তার সাবেক স্ত্রী সোনিয়াকে আবারও বিয়ে করেছেন এবং রাজশাহীতে চিকিৎসার কথা বলে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। এই খবর রীমার স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই ক্ষোভের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় রীমার পরিবারের লোকজন রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় এবং বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে যায়। পরদিন রবিবার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা এলাকা থেকে একটি এক্সক্যাভেটর এনে আস্ত বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত রীমা খাতুনের বাবা মুকুল হোসেনকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার মামা মঞ্জুর হোসেন ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, রফিকুলের কর্মকাণ্ডে শুধু তাদের পরিবার নয়, গ্রামের অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এভাবে বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া ঠিক হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন এবং বাড়িটি মেরামত বা নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি রাজশাহীতে চিকিৎসা নিয়ে কাউকে না জানিয়ে একাই মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিছক সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাড়ি ভেঙে দিয়েছে এবং নগদ টাকাসহ প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
বার্তা নিউজ/পিআরএএন













