নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। মীনা শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় বাংলা কার্টুন চরিত্র। এ কার্টুন তৈরি করেছে ইউনিসেফ।
কার্টুনের মূল চরিত্র মীনা আট বছর বয়সের কন্যাশিশু। সে তার পরিবারের সঙ্গে একটি ছোট গ্রামে বাস করে। এ চরিত্রের মাধ্যমে শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিনোদন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মীনা কার্টুনে একটি পরিবারের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মীনা সময়মতো স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে এবং পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে।
সারাবিশ্বের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও উদযাপিত হয়েছে মীনা দিবস।
মিনা চরিত্রটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বালিকা চরিত্র। ১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী মিনা দিবস উদযাপন করছে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা।
মীনা উৎসাহ-উদ্দীপনা, উচ্ছ্বল-উজ্জলতার প্রতীক। বাংলাদেশে কন্যাশিশুদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ছোট্ট মীনার ভূমিকা অনেক। খুব কম সময়ের মধ্যে মীনা চরিত্রটি এ দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও লাভ করে। ১৩টি পর্ব দিয়ে শুরু হলেও পরে এ সিরিজটির পর্ব সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭টি।
১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরকে জাতিসংঘ কন্যাশিশু দশক হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শুরুতে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে সম্প্রচারিত হলেও পরে বিশ্বের ২৯টি ভাষায় অনূদিত হয় মীনা সিরিজ।
সিরিজটির ধারাবাহিক পর্বগুলোর মধ্যে অন্যতম- মুরগিগুলো গুনে রাখো, বুদ্ধিমতি মীন, মীনা কি স্কুল ছেড়ে দেবে, মীনা ও দুষ্টু ছেলে, মীনার তিনটি ইচ্ছা, বিয়ের বয়স হয়নি, মেয়েদের যত্ন নাও, আমি স্কুল ভালোবাসি, মীনা এখন শহরে প্রভৃতি।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে শহরাঞ্চলের প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং গ্রামের ৮১ শতাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী মীনাকে চেনে। জনপ্রিয় এ কার্টুন সিরিজের গল্প এবং ভাষা এতটাই সাবলীল ছিল যে, মীনার সঙ্গে এ দেশের শিশু-কিশোরদের খুব দ্রুত সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল। ছোটবেলা থেকে শিশুদের অভ্যাস গড়ে দিতে পারে এমন বিষয়গুলো সাবলীলভাবে তুলে ধরতে পারার কারণে মীনা চরিত্রটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এদিন সকাল ১০টায় ঢাকা পিটিআইতে দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। সভাপতিত্ব করবেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত।
এছাড়া দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গল্প বলার আসর, প্রেরণামূলক বক্তব্য, পাপেট শো ও মাপেট শো, স্টল প্রদর্শনী, রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, যেমন খুশি তেমন সাজো ও মীনা বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
বার্তা নিউজ/কেএমএল

.webp)












