অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বলছেন, এই চুক্তির মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে কম দামে গম, তেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। ফলে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি কমে আসবে এসব পণ্যের দাম।
তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শুক্রবার রাতে রাশিয়া ও ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর দিয়ে আগামী চারমাসের জন্য খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে দিতে চুক্তিতে সই করেছে। ফলে রাশিয়ার অভিযানের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির পথ আবার খুলে গেছে।
রাশিয়ার উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেনের রপ্তানি বন্ধ থাকার প্রভাব পড়ে বিশ্ব বাজারে। নিজেদের চাহিদা মেটাতে খাদ্যশষ্য ও ভোজ্যতেল রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে অনেক দেশ। ফলে বেড়ে যায় এসবের দাম।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ওই চুক্তি হওয়ায় বিশ্ব বাজারে খাদ্যশষ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। দেশেও শিগগিরই এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করে অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে। অবরোধ চলাকালীন অনেকেই খাদ্য উৎপাদন করেও বাজারে ছাড়ছিলেন না, কারণ তারা দাম বাড়ার অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু গুদামজাত সেই পণ্যগুলো এখন বাজারে আসতে থাকবে।
ভারত, ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে বছরে ৭৫ লাখ টন গম আমদানি করে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে রাশিয়া থেকে ৫০ লাখ টন গম আমদানির জন্য আলোচনা শুরু করেছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ আরও কম দামে গম পাবে বলে আশা করছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে আমাদের এখানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা কম দামে অনেক কিছুই ক্রয় করতে পারব। গমের দাম কমলে সেটার প্রভাব চালের দামের ওপরও পড়বে।
উল্লেখ্য, গেল বছর বিশ্বের অষ্টম গম আমদানিকারক দেশ ছিল বাংলাদেশ।














