তবে পুনরায় দখল ঠেকানো, নিয়মিত তদারকি এবং হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এ পরিবর্তন দৃশ্যমান। মিরপুর-১-এর শাহ আলী মার্কেট, সনি সিনেমা হলের মোড়, মুক্তবাংলা মার্কেট, পাইকপাড়া ও বাঙলা কলেজ এলাকা থেকে মিরপুর-২-এর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকা এবং মিরপুর-১০ গোলচত্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
মিরপুর-১০ ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে, ফলপট্টি, শাহ আলী প্লাজা, আনোয়ার ম্যানশন, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও হারমান মেইনার স্কুলের সামনের ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে অস্থায়ী দোকান ও পণ্যের পসরার কারণে হাঁটার জায়গা সংকুচিত ছিল, সেখানে এখন ফুটপাত ধরে চলাচল করছেন মানুষ। কিছু স্থানে নতুন করে দখল ঠেকাতে গাছ লাগানো হয়েছে। কোথাও বসানো হয়েছে ফুলের টব।
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাতে হকারদের আর বসতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য, দোকানপাট ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদ করতে হয়েছে।
রাজধানীর দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউমার্কেট, মৎস্য ভবন ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল সরিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পাশাপাশি সড়কের মিডিয়ান, সড়কদ্বীপ ও বিভিন্ন চত্বরে গাছ লাগানো হচ্ছে।
নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট থেকে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটসংলগ্ন ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাত এবং প্রিয়াঙ্গন সুপার মার্কেট থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত মূল সড়ক দখলমুক্ত করা হয়েছে। পুনর্দখল ঠেকানো ও সৌন্দর্য বাড়াতে এসব স্থানে সাময়িকভাবে বিভিন্ন গাছের টব বসানো হয়েছে।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৩১ কিলোমিটার সড়ক মিডিয়ানে ২ লাখ ১৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন চত্বরে ৮ হাজার এবং সড়কদ্বীপে ২ হাজার ৩০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। খেলার মাঠ, পার্ক, উদ্যান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও চলছে বৃক্ষরোপণ।
এর অংশ হিসেবে ১২টি খেলার মাঠের চারপাশে ৯০০টি এবং ১৪টি পার্ক ও উদ্যানে ৮০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২০টি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আরও ৪০০টি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক মিডিয়ানগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে ডিএসসিসি। শিক্ষা ভবন, কাকরাইল, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, নিউমার্কেট, পান্থপথ ও শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক এ পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে।
সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সংস্কারের পাশাপাশি ডাস্টবিন ও পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। সীমানাপ্রাচীরে আঁকা হয়েছে জয়নুল আবেদীন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বাসসকে বলেন, পথচারীবান্ধব নগর গড়ে তোলা এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই রাস্তা ও ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না।
পুনর্দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যতবারই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা হবে, ততবারই আমরা নগরবাসীর স্বার্থে অভিযান চালাব।’ অবৈধভাবে দোকান বসালে মালামাল জব্দসহ প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বাসসকে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তবে এর সুফল ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি, পরিচ্ছন্নতা ও পরিকল্পিত সবুজায়ন জরুরি। একই সঙ্গে হকারদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বার্তা নিউজ/এমএনকে














