প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি গ্রীষ্মে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় যন্ত্রাংশবাহী চালানটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। পেন্টাগন কিছু যন্ত্রাংশ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু যোগাযোগ করলেও পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
পলিটিকো জানায়, এফ-৩৫ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের একটি মধ্যস্থতাকারী পরিবহন সংস্থার মাধ্যমে যন্ত্রাংশগুলো পাঠানো হচ্ছিল। তবে কী কারণে চালানটির পথ পরিবর্তন করা হলো কিংবা বর্তমানে যন্ত্রাংশগুলো কার হেফাজতে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা গত জুন মাস থেকেই কংগ্রেসের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের নিয়মিত অবহিত করছেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে।
নিখোঁজ চালানের ভেতর একটি এফ-৩৫ ককপিটের ওপরের আচ্ছাদন বা ক্যানোপি ছিল, যা মূলত গোপন স্টিলথ প্রযুক্তিতে তৈরি। এই প্রযুক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের হাতেই রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি কোনো প্রতিপক্ষের হাতে পৌঁছালে তারা ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তা হুবহু তৈরি বা বিশ্লেষণ করার সুযোগ পেতে পারে।
পেন্টাগনের এফ-৩৫ জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিস জানিয়েছে, এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এর কিছু অকেজো যন্ত্রাংশ পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। খোয়া যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
হংকং চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হওয়ায় যন্ত্রাংশগুলো কার্যত বেইজিংয়ের প্রভাববলয়ের মধ্যে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন দীর্ঘদিন ধরেই এফ-৩৫-এর মতো মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সাবেক কর্মকর্তা জে. জে. গার্টলার মন্তব্য করেছেন, ইলেকট্রনিক নজরদারির মাধ্যমে চীন এফ-৩৫ সংক্রান্ত তথ্য পেতে চায় এটি কোনো গোপন বিষয় নয়। তবে যন্ত্রাংশগুলোর তাত্ত্বিক নকশা তাদের জানা থাকলেও, বাস্তবে যন্ত্রাংশটি হাতে পেলে তারা প্রাপ্ত তথ্য আরও নির্ভুলভাবে যাচাই ও প্রয়োগের সুযোগ পাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান













