আল জাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, "ইরান সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন ও হিসাব-নিকাশ ভুল ছিল। এই যুদ্ধ মূলত নেতানিয়াহুর উসকানিতে শুরু হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে আমাদের শর্ত মেনে নেওয়াতেই ওয়াশিংটনের স্বার্থ নিহিত; ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না। আমরা একটি চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।"
ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা সম্পর্কে তেহরান অবগত এবং যেকোনো বিমান হামলা প্রতিহত করতে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে নিজস্ব কৌশলে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
আত্মরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "সম্প্রতি আমরা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি। আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত কঠোর। আমাদের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ওয়াশিংটনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরও জোরালো আঘাত হানা হবে।"
তিনি আরও জানান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং পুনরায় সংলাপ শুরুর শর্তগুলো তাদের জানানো হয়েছে। কাতারি মধ্যস্থতাকারী এই শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পুনরায় পাঠিয়েছেন এবং তেহরান এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান, আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড় এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) প্রসঙ্গে রেজাই উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ইরানকে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার যুক্তি জোগাতে পারে। তবে এনপিটি থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; এটি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের আচরণের ওপর। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত ফতোয়ার প্রতি ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরমাণু নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, তবে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান চাই। আমাদের বিশ্বাস, ইয়েমেনিদের পক্ষ থেকেও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সদিচ্ছা রয়েছে।"













