বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক শাহরিয়ার কবীর এবং সাক্ষীদের বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের এই পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনা আটটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে নিরীহ ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা কার্যকরে তিনি ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন তিনি। তার ওই নির্দেশনার বাস্তবায়নে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী গুলি চালালে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।
পাশাপাশি, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, আটক-নির্যাতনসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে তিনি শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন। ২৯ জুলাই জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত থেকে তিনি উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন এবং সরকার পতনের একদিন আগে ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করে। ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাক্ষ্য দেন। এছাড়া ২০ সিরিজের ডকুমেন্ট ও পাঁচটি বস্তু প্রদর্শনী আদালতে উপস্থাপন করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন এবং সর্বশেষ ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল এই কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
বার্তা নিউজ/পিআরএএন














