স্কুলের প্রশাসক জানান, ঘটনার দিন সকালে ওই যুবক স্কুল গেটে এসে সন্ধ্যার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তিনি গেটের কাছে গেলে ওই ব্যক্তি হঠাৎ ছুরি বের করে তার মুখ, ঘাড় ও বুকে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩০ বারের বেশি আঘাত করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশধারী ব্যক্তিটি স্কুলে প্রবেশ করে লবিতে অপেক্ষা করছিল। শিক্ষিকাকে দেখামাত্র সে ইশারা করে তাকে বাইরে ডাকে এবং ঘাড় চেপে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত শুরু করে। শিক্ষিকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার পরও আক্রমণকারী তার ওপর হামলা অব্যাহত রাখে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে করিডোর থেকে চিৎকার শুনে নিজের কক্ষ থেকে ছুটে যান স্কুলের প্রশাসক। তিনি জানান, শিক্ষিকাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করে আক্রমণকারীকে থামতে বলেন। এ সময় হামলাকারী ছুরি হাতে তার দিকেও তেড়ে আসে। আত্মরক্ষার জন্য প্রশাসক কিছু খোঁজার আগেই ঘাতক আবারও মেঝেতে পড়ে থাকা শিক্ষিকার পেট ও মুখে প্রায় ২০ বার আঘাত করে এবং একটি নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় সন্ধ্যাকে আল ফালাহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই কোট গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী অমিত নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর অমিত হত্যার দায় স্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সন্ধ্যার সঙ্গে অমিতের পরিচয় হয়। সন্ধ্যা কথা বলতে না চাইলেও অমিত তাকে বারবার উত্ত্যক্ত করত। ক্রমাগত হয়রানির শিকার হয়ে শিক্ষিকা মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন এবং কয়েকদিন আগে অমিতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। সে সময় অমিত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল। পুলিশের ধারণা, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই অমিত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বার্তা নিউজ/এফএইচআর












