রবিবার রাতের এই অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় জরুরি প্রস্থানের দরজাগুলো তালাবদ্ধ ছিল এবং বের হওয়ার পথ নির্দেশ করার মতো কোনো চিহ্ন বা সংকেত সেখানে ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, বারের মঞ্চের কাছে থাকা দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি সাজসজ্জার কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার পুলিশ জেনারেল কিত্তিরত ফানফেত বলেন, এই ঘটনা গ্রাহকদের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবহেলা ও গাফিলতির একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের অনেককেই বারের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাঁচার তাগিদে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু আর বের হতে পারেননি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যার ফলে দ্রুত পুরো বার বিদ্যুৎহীন হয়ে অন্ধকারে ডুবে যায়।
বারটিতে এর আগে আসা দর্শনার্থীরা জানান, স্বাভাবিক অবস্থাতেও এটি বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। মে মাসে সেখানে যাওয়া ফাতসারা খামলোয়েত নামের এক দর্শনার্থী বিবিসি থাইকে জানান, শৌচাগারে যাওয়ার পথটি অত্যন্ত আঁকাবাঁকা ছিল এবং জরুরি প্রস্থানের পথগুলো ঠিকমতো চিহ্নিত করা ছিল না। থাইল্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুসাকর্ন সেনসুক ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, শৌচাগারের কাছের দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল এবং প্রবেশপথের দুটি দরজা আসবাবপত্র দিয়ে আংশিকভাবে অবরুদ্ধ ছিল। তিনি আরও জানান, অন্ধকারে জরুরি সংকেতগুলো জ্বললে মানুষ হয়তো বুঝতে পারত যে দরজাটি তালাবদ্ধ এবং তা খোলার চেষ্টা করতে পারত। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মঞ্চ সাজাতে প্লাস্টিকের ফুলের মতো অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ছাদে দাহ্য ফোম লাগানো ছিল। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো মঞ্চটি আগুনে ঢেকে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় পারফর্ম করতে থাকা থাই ইন্ডি ব্যান্ড 'থোতসাকান'-এর দুই সদস্যও এতে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ‘ওরসাক কানোক নুকুলচাই’ মনে করেন, আগুনে পোড়ার আগেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। দাহ্য পদার্থের সঙ্গে আগুনের বিক্রিয়ায় কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সায়ানাইড উৎপন্ন হয়েছিল, যা আগুনের ধোঁয়ার অত্যন্ত প্রাণঘাতী উপাদান হিসেবে পরিচিত। ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ‘রং বিয়ার না লাত ফরাও’ নামের ওই বারটি ‘বিনোদন কেন্দ্র’ হিসেবে নয়, বরং ‘লাইভ মিউজিকসহ রেস্তোরাঁ’ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। ফলে সেখানে অগ্নিনির্বাপক বা আগুন প্রতিরোধী সামগ্রী ব্যবহারের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে এই ঘটনার পর ব্যাংকক মেট্রোপলিটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, তারা এখন থেকে বিনোদন কেন্দ্র ও রেস্তোরাঁ নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সামগ্রী ব্যবহারের নিয়মনীতিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করছে।
সূত্র: বিবিসি
বার্তা নিউজ/ এসভিএন














