চোট জর্জরিত একটি মৌসুম কাটানোর পরও বিশ্বকাপে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই দেশটিতে বিতর্ক ছিল। অনেক সমর্থক মনে করেছিলেন, ফর্মে থাকা জোয়াও পেদ্রোর জায়গা কেড়ে নিয়েই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, পেদ্রো এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন যিনি ব্রাজিল দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দিতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দলটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সেই ক্ষোভ আরও বাড়ে। যদিও টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচে নেইমার গোল করেছিলেন, তবে তা দলকে আসরে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
জাতীয় দলের এমন হতাশাজনক বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নেইমারকে দেখা গেল লাস ভেগাসে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পোকার টুর্নামেন্ট ‘ওয়ার্ল্ড সিরিজ অফ পোকার’-এর ১০,০০০ ডলারের নো-লিমিট হোল্ডেম ৬-ম্যাক্স ইভেন্টে অংশ নেন তিনি। সান্তোসে তার ভবিষ্যৎ বা অবসরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়েই ফুটবলকে আপাতত একপাশে সরিয়ে রেখে ভিন্ন এই প্রতিযোগিতায় তার উপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নেইমার চিপস নিয়ে পোকার টেবিলে বসে আছেন এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা তাকে ঘিরে আছেন। এই দৃশ্য ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের হতাশ করেছে, যারা তখনও জাতীয় দলের বিদায়ের বিষয়টি হজম করার চেষ্টা করছিলেন। অনেকেই মনে করছেন, দেশের এমন একটি ব্যর্থতার পরপরই দলের অন্যতম প্রধান তারকার এই পদক্ষেপ একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে।
ভিডিওটিতে নেইমারের বাজি ধরা বা হার-জিতের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেক সমর্থক তার এই আচরণের সঙ্গে জাতীয় দলের একজন তারকার ভাবমূর্তির অমিল খুঁজে পেয়েছেন এবং এর তীব্র সমালোচনা করছেন। তবে সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলের বাইরে ব্যক্তিজীবনে নিজের সময় ও অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন, সেই স্বাধীনতা অবশ্যই এই ফরোয়ার্ডের রয়েছে।
আপাতত, সান্তোসের জার্সিতে তার ভবিষ্যৎ কী হবে তা অজানা থাকলেও, ফুটবলের মাঠের চেয়ে পোকার টেবিলের এই উপস্থিতিই তাকে আবারও ক্রীড়া বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
সূত্র: মার্কা ডট কম
বার্তা নিউজ/এমএনকে


.webp)










