মস্কোতে জন্মগ্রহণকারী পুশকিন ধাত্রী ও ফরাসি শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং দশ বছর বয়স অবধি মূলত ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে সারস্কোয়ে সেলোতে মর্যাদাপূর্ণ ইম্পেরিয়াল লাইসিয়ামের প্রথম স্নাতক শ্রেণির অংশ হিসেবে যখন তিনি পড়া শেষ করেন, ইতোমধ্যে তার প্রতিভা সম্পর্কে রুশ সাহিত্য জগৎ অবগত হয়ে যায়। লাইসি থেকে স্নাতকত্ব লাভের পর পুশকিন তার বিতর্কিত কবিতা ‘ওড টু লিবার্টি’ আবৃত্তি করেন, যা রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার কর্তৃক তার নির্বাসন দানের অন্যতম কারণ। বিদ্যালয় শেষে পুশকিন রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রাণবন্ত এবং উচ্ছৃঙ্খল বুদ্ধিজীবী তরুণদের সংস্কৃতিতে ডুব দেন।
রোমান্টিক ধাঁচের কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক পুশকিনকে অনেকেই রাশিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। ইংরেজি সাহিত্যে শেকসপিয়ার, জার্মান সাহিত্যে গ্যেটে ও বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের মতোই রুশ সাহিত্যে পুশকিনের সাম্রাজ্য। ১৫ বছর বয়সেই তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৮২০ সালে ‘রুসলান ই লুদমিনা’ নামে কাহিনিকাব্য প্রকাশিত হলে তাকে উদীয়মান কবি হিসেবে ধরে নেন অনেকে।
জারের রাজনৈতিক পুলিশ বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে লেখা প্রকাশ করতে অক্ষম থাকা অবস্থাতেই পুশকিন তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক বোরিস গোদুনোভ লিখেছিলেন। তার কাব্যিক উপন্যাস ইউজিন ওনেজিন ১৮২৫ থেকে ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে লিখিত হয়।
পরের ১০ বছর তিনি কাব্য, গদ্য; এসবের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কাটান। ১৮২৯ থেকে ১৮৩৬ সালের মধ্যে তার রচনাগুলো রুশ সাহিত্যে নবদিগন্তের উন্মেষ ঘটায়। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে পুশকিনকে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে বন্দি করে নির্বাসনে পাঠানো হয় দক্ষিণ রাশিয়ার একটি দুর্গম অঞ্চলে।
১৮৩৬ সাল থেকে পুশকিন একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন, বাংলায় যার নাম হতে পারে ‘সমসাময়িক সাহিত্য’। পুশকিনের অসংখ্য কবিতা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। রাশিয়ান রোমান্টিসিজমের প্রদর্শক হিসেবে স্বীকৃত পুশকিনের ‘আমি তোমাকে ভালোবাসতাম, সম্ভবত এখনও ভালোবাসি’ কবিতাটি ভালোবাসার শক্তিশালী কবিতা হিসেবে সমাদৃত। ভাষার ওপর আশ্চর্য দক্ষতা, প্রাঞ্জলতা ও গভীরতা ছিল তার সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য।
আলেকজান্ডার পুশকিন ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার শেষ বাড়িটি এখন একটি জাদুঘর।
বার্তা নিউজ/আরপিকে














