বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ধানসাগর, কৈখালী ও কৈলাশগঞ্জের মতো যেসব এলাকা দিয়ে বাঘ প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ত কিংবা বনজীবীদের ওপর হামলা চালাত, সেসব স্থানে শক্ত ও টেকসই নাইলনের এই বেড়া বসানো হয়েছে।
জোয়ার-ভাটা, কাদা ও লবণাক্ত আবহাওয়ার মতো প্রতিকূল পরিবেশে স্থায়ী কংক্রিট বা ধাতব প্রাচীর নির্মাণ পরিবেশবান্ধব নয় এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সে তুলনায় হালকা, পরিবেশবান্ধব ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য এই নাইলন ফেন্স সুন্দরবনের নাজুক ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের কোনো ক্ষতি না করেই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, বনের চারপাশে ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় সফলভাবে এই বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই বেড়া দেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মানুষ ও বাঘের কোনো সংঘাত ঘটেনি। এমনকি ২০১৮ সালের পর থেকে লোকালয়ে নতুন করে বাঘ ঢুকে পড়ার কোনো ঘটনাও নজরে আসেনি।
বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, এই নাইলন ফেন্স মূলত বাঘের জন্য একটি কার্যকর মনস্তাত্ত্বিক বাধা হিসেবে কাজ করে। স্বাভাবিকভাবে বন্যপ্রাণী কোনো দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক দেখলে সেদিকে না গিয়ে বনের গভীরে ফিরে যায়। বিশেষ করে মৌয়াল, বাউয়ালি ও জেলেরা যেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প করে অবস্থান করেন, সেখানে এই বেড়া বাড়তি সুরক্ষার স্তর হিসেবে কাজ করছে। ফলে বিগত চার-পাঁচ বছরে বন সংলগ্ন অঞ্চলে বাঘ ও মানুষের দ্বন্দ্ব উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী দুই দশকে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে মানুষ ও বাঘের দ্বন্দ্বে আনুমানিক ৩০০ জন মানুষ এবং ৩৮টি বাঘের প্রাণহানি ঘটে। বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সতর্ক নজরদারির ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, বেড়া যেন প্রাণীদের চলাচলে অহেতুক বিপত্তি তৈরি না করে কিংবা কোনো বন্যপ্রাণী এতে আটকে আহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে বনজীবীদের নিরাপত্তা সচেতনতা ও বন বিভাগের টহল জোরদার রাখলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হবে।
বার্তা নিউজ/এমএনকে














