মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইনফান্তিনো সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফিফার ভেতরে ও বাইরে যখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন এই বৈঠককে নিজের অবস্থান রক্ষার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সমর্থনও কি হারিয়েছেন ইনফান্তিনো?
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বর্তমানে ট্রাম্প ইনফান্তিনোর ফোন ধরতেও আগ্রহী নন। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, একের পর এক নেতিবাচক সংবাদ ও সমালোচনার কারণে ইনফান্তিনো নিজেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন মনে করছেন এবং প্রকাশ্যে তার পক্ষে দাঁড়াতে পারেন—এমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মিত্রের খোঁজ করছেন।
২০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘিরেই বিতর্ক
বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ফিফার প্রস্তাবিত 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)' প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিশ্বকাপের সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি ও লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে কিনতে আগ্রহ দেখায়। এতে পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্য ধরা হয় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সদস্য ফেডারেশন ও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল প্রশাসকদের না জানিয়েই গোপনে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
ফিফার ভেতরেও বাড়ছে অসন্তোষ
শুধু বাইরের সমালোচনাই নয়, ফিফার অভ্যন্তরেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামোর প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন। তার দাবি, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে হওয়া আলোচনা সম্পর্কে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিফার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘প্রজেক্ট কিল দ্য মনস্টার’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন, যার লক্ষ্য ইনফান্তিনোকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া।
উয়েফার কঠোর অবস্থান
ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার অবস্থান থেকে। গত ৩০ জুলাই উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না হলে তারা ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের পথেও যেতে পারেন।
এতে ফিফা বড় ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চাপে পড়েছে। কারণ ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক স্পেন ও পর্তুগাল-দুই দেশই উয়েফার সদস্য।
নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সংকটে ইনফান্তিনো
২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফিফায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। কিন্তু এক দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি নিজের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিতর্ক, ফিফার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।
বার্তা নিউজ/আরএফই













