গত বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছাকাছি সোরাঞ্জ নামক একটি দুর্গম এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খনির ভেতরে অতিরিক্ত মাত্রায় মিথেন গ্যাস জমে যাওয়ার কারণেই এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত ২৯ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছেন। খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার পর ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ায় ভেতরে আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশা একেবারেই ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রদেশের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ এর আগে জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক অবস্থান করছিলেন। ওই অঞ্চলের আরেক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা আবদুল গনি বালোচ জানান, বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে এর ফলে কাছাকাছি অবস্থিত দুটি খনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের কয়লা খনি শিল্পে, বিশেষ করে বেলুচিস্তানে এ ধরনের দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ একটি চিত্র। সেখানকার বেশিরভাগ খনিতেই পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, গ্যাস নিয়ন্ত্রক মনিটর এবং অন্যান্য মৌলিক সুরক্ষার চরম ঘাটতি রয়েছে। খনি শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী প্রদানে চরম অবহেলার অভিযোগ করে আসছে। জীবনের ঝুঁকি ও স্বল্প মজুরি থাকা সত্ত্বেও কাজের অভাব এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অথচ সবচেয়ে অনুন্নত এই প্রদেশের হাজার হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে এই বিপজ্জনক কয়লা খনিগুলোর ওপরই নির্ভর করতে বাধ্য হন।
সূত্র: আল জাজিরা
বার্তা নিউজ/ এসভিএন













.webp)