মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মো. আবু তাহের মণ্ডলের ছেলে মো. আখতারুজ্জামান পেশায় একজন প্রকৌশলী। নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি তিন বছর আগে নিজের একতলা ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করেন। বর্তমানে তার উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ ব্যবহার হচ্ছে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘সালেহা এলপিজি স্টেশন’-এর প্রয়োজনীয় কাজে, আর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেন আখতারুজ্জামান। বিএসটিআই ও স্রেডা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ৯টি সৌর প্যানেল দিয়ে তিনি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। প্রতিটি প্যানেলের উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫০ থেকে ৬৩০ ওয়াট। এই ছোট পরিসরের সৌর প্রকল্প বাস্তবায়নে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪.৯ কিলোওয়াট (৪,৯০০ ওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তার এই সৌর প্রকল্প থেকে।
অনগ্রিড ইনভার্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি যুক্ত হয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মূল গ্রিডে। নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করার পর প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০০ ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন তিনি। প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৪৫ পয়সা দরে মাসে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ টাকা আয় করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এতে আগ্রহী আছে। যে কেউ ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে এটা বাস্তবায়ন করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে অবদান রাখতে পারে আমার মতো করে। আমি আমার এক শিক্ষকের নিকট থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর গত তিন বছর আগে এটি শুরু করি।’
আখতারুজ্জামানের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এলাকার অন্য তরুণরাও। তারা তার কাছ থেকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, নেট মিটারিং পদ্ধতি এবং এর সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। তাদের মতে, নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে লাভবান হওয়ার এই উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আখতারুজ্জামানের এই সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।’
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। আখতারুজ্জামানের এই ছোট উদ্যোগ প্রমাণ করে- ব্যক্তিগত পর্যায়েও সৌরশক্তি ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। মাগুরার এই তরুণ উদ্যোক্তার পথ দেখানো উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেককে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আগ্রহী করে তুলবে।
বার্তা নিউজ/এসভিএন
.00_03_31_14.Still005.webp)













