গত সপ্তাহে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের কাছে নতুন একটি বাণিজ্যিক সংস্থা গঠনের মাধ্যমে এর ২০ শতাংশ মালিকানা ৪২০ কোটি ডলারে বেসরকারি খাতের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সাথে যুক্ত একটি কোম্পানির সম্পৃক্ততার খবর এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার এই প্রস্তাবটি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
গত শুক্রবার প্রস্তাবটি থেকে সরে আসলেও সমালোচকদের শান্ত করতে পারেননি ইনফান্তিনো। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তার বিরুদ্ধে ফুটবলের মূল সত্তা বিক্রির অভিযোগ এনেছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তার নেতৃত্বের ওপর তাদের আর কোনো আস্থা নেই।
এর ফলে আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে তার টানা চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফিফার অভ্যন্তরীণ শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই বিতর্কিত প্রস্তাব থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখছেন।
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামোর এই ঘটনাকে 'দুঃখজনক' এবং 'একক ব্যক্তির প্রকল্প' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ফিফার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কোর্ডেইরো পদত্যাগ করেছেন এবং গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন যে তিনি এই প্রস্তাবের সাথে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) সম্মিলিতভাবে ইনফান্তিনোকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে তারা ফিফাকে অচল করে দিয়ে নিজেদের মতো প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও হুমকি দিয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু দেশ তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। এএফসির অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে কাতার, কুয়েত, লেবানন, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া আফ্রিকার শীর্ষ ফুটবল প্রশাসকরাও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা দেশ এবং বিশ্বকাপজয়ী শীর্ষ দেশগুলোর ভোটের মান সমান হওয়ায়, মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল ছোট দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে ইনফান্তিনো তার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর আশা দেখছেন।
সূত্র: রয়টার্স
বার্তা নিউজ/ এসভিএন













