গত ৯ সেপ্টেম্বর আকিনজি ড্রোনের ডানার নিচে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির বাস্তব উপস্থিতি প্রথম জনসমক্ষে আসে এবং এর ঠিক দুদিন পর, আজ ক্ষেপণাস্ত্রটির সাহায্যে কৃষ্ণসাগরের ২৫০ কিলোমিটার দূরের একটি সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনে মিসাইলের লাইভ ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন করা হয়।
তুরস্কের বিখ্যাত অস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানি রকেটসান (Roketsan) এই ৩০০ ইআর (300 ER) এয়ার লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলটি তৈরি করেছে। এই মিসাইলের সর্বোচ্চ পাল্লা বা ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ হতে পারে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। এটি মূলত এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শত্রুপক্ষের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমানায় প্রবেশ না করেই অনেক দূর থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সামরিক টার্গেটে আঘাত হানা যায়।
এটিকে আকিনজি কমব্যাট ড্রোন ছাড়াও তুরস্কের এফ-১৬ ফাইটার জেট থেকেও ব্যবহার করা যাবে। একাধিক তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে ৩০০ ইআর মিসাইলের গতি হাইপারসনিক বলে দাবি করা হলেও অনেক বিশ্লেষক একে সাধারণ সুপারসনিক গতিসম্পন্ন মনে করেছিলেন।
তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সর্বশেষ গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট আকার (৩৭০ মিমি ব্যাস এবং ৫ মিটার দৈর্ঘ্য) এবং এটি ড্রোনের উড্ডয়ন উচ্চতা থেকে নিক্ষেপ করার কারণে খুব সহজেই 'হাইপারসনিক' গতিসীমা (শব্দের গতির চেয়ে ৫ গুণেরও বেশি) স্পর্শ করতে সক্ষম।
প্রচলিত জ্যামিং বা তরঙ্গ বাধা পরিস্থিতির মধ্যেও এটি যাতে লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়, সেজন্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে একটি উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম এবং আধুনিক টিভি সিকার (TV Seeker) ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে শত্রুপক্ষ জ্যামিং সিগন্যাল ব্যবহার করলেও ক্ষেপণাস্ত্রটি নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারবে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা ওয়েবসাইট 'তুরডেফ' (TurDef)-এর তথ্যমতে, ৩০০ ইআর এয়ার লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলটি বর্তমানে প্রচলিত যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। ক্রুজ মিসাইলের চেয়ে এর গতি বহুগুণ বেশি হওয়ায় এবং অনেক দূর থেকে নিক্ষেপ করার সুবিধা থাকার কারণে শত্রুপক্ষের রাডার একে সহজে চিহ্নিত কিংবা প্রতিহত করার সময় পাবে না।
তথ্যসংগ্রহ ও সংকলন: সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।
বার্তা নিউজ/আরএসএল














