গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ৬০টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের নতুন শুল্ক আরোপ করে। জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে। মূলত, ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ ২৪ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়ে যাওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে এই নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই আইনটি সাধারণত অন্য দেশের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি আখ্যা দিয়ে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রায় সব দেশের আমদানির ওপর ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, আইইইপিএ আইনের আওতায় এ ধরনের শুল্ক আরোপের কোনো ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। ওই রায়ের পর আদায়কৃত শুল্ক আমদানিকারকদের ফেরত দিতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর রাজস্ব ঘাটতি পূরণে ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক বসিয়েছিলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নতুন করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক ও ওরেগন অন্যতম এবং এসব রাজ্যের গভর্নর বা অ্যাটর্নি জেনারেলরা ডেমোক্র্যাট দলের। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর প্রশাসন এখন আগের বাতিল হওয়া শুল্কগুলোকেই ‘জোরপূর্বক শ্রমের’ অজুহাতে ফিরিয়ে আনছে এবং পরিবার ও ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধভাবে করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই এই শুল্ক আরোপকে যথাযথ ও আইনসম্মত উল্লেখ করে বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও মার্কিন শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই অন্য দেশের এমন অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জবাব হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বার্তা নিউজ/এফএইচআর













