শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নেওয়া হয় রামু সেনানিবাসে। সেখানে আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সন্ধ্যার আগেই মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। নিহত তিতাস শেখ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার গহীন পাহাড়ে যৌথবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৬ জনকে শুক্রবার দুপুরে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রসহ আটক ৬ মানবপাচারকারীকেও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ৫৬ জনের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জন উদ্ধারের তথ্য দেওয়া হলেও যাচাইকালে তাদের মধ্যে একজন দালাল শনাক্ত হয়। তিনি আরও জানান, গুলিতে সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের আসাদুজ্জামান জানান, উখিয়ার ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গার মাধ্যমে কাজের প্রলোভনে পড়ে তিনি পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েন। পরে তাঁকে টেকনাফের পাহাড়ে নিয়ে মোবাইল ও সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল পাহারা দিত। সাগরে ট্রলারে জায়গা না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় রক্ষা পান এবং সর্বশেষ পাচারের আগের দিন সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।
উখিয়ার বাসিন্দা মো. সাইফুল ও মিজানুর রহমান সাগর জানান, নূরালী নামের এক দালাল তাঁদের এক লাখ টাকায় পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। দিনে মাত্র দুই বেলা কাঁচা কদু ও ডাল দেওয়া হতো এবং পালানোর চেষ্টা করায় লোহার শিকলে বেঁধে নির্যাতন করা হতো।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। মরদেহগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুমে পাহাড়ভিত্তিক মানবপাচার ও অস্ত্রধারী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় পাহাড়কে অপরাধমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানান তাঁরা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেফতারে বাহিনীগুলো তৎপর রয়েছে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে সেনাসদস্য হত্যার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টেকনাফ ও উখিয়ায় মিছিল-সমাবেশ করেছে বিএনপি এবং মানববন্ধন করেছে টেকনাফের সাধারণ ছাত্র-জনতা।
বার্তা নিউজ/এমকেএ





.webp)





