গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় ৭৩ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। যুদ্ধ ও প্রাণভয়ে গত বছরের এপ্রিলে গাজা শহরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল আবদেল আল পরিবার। তীব্র ক্ষুধা ও সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই ত্রাণের খোঁজে বের হতে হয়েছিল দুই ভাইকে। তারা যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন তাদের বাবা রাফাতও উত্তর গাজার জিকিম এলাকায় ত্রাণের খোঁজে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে ছেলেদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এরপর হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়স্বজনের কাছে খুঁজেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি রাফাত।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারটি নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যের সম্মুখীন হয়েছে। একবার শুজাইয়া এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ পাওয়ার খবরে ছুটে যান রাফাত, আবার আল-আহলি আরব হাসপাতালে একটি মরদেহ ওথমানের বলে ধারণা করা হলেও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির সময় শুজাইয়া এলাকায় নিজেদের পুরোনো বাড়ির কাছে গিয়ে রাফাত কেবল ধ্বংসস্তূপ ও একটি ছোট হাড়ের টুকরো ছাড়া আর কিছুই পাননি। পরে ওই এলাকাটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সেখানে ঢোকার আর কোনো উপায় ছিল না।
চলতি বছরের মে মাসে রাফাতের কাছে একটি ফোন কল নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। একজন ইসরায়েলি আইনজীবী দাবি করেছিলেন যে ছেলে দুটি বেঁচে আছে এবং তারা ওফের ও নাকাব কারাগারে বন্দি রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই আইনজীবীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গাজায় নিখোঁজ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা ফিলিস্তিনি কেন্দ্রের পরিচালক নাদা আবু আইতা জানান, গাজায় প্রায় ১১ হাজার ২০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তথ্যের অভাব এবং বিভ্রান্তিকর খবরের কারণে পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেকেই ভুয়া আইনজীবী ও অস্তিত্বহীন সংস্থার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস জানিয়েছেন, তাদের কাছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে আইসিআরসির প্রবেশাধিকার না থাকায় বন্দিদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাফাত ও আশজান এখন আর কোনো মিথ্যা আশ্বাসে ভরসা রাখতে চান না। তারা কেবল তাদের সন্তানদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে একটি নিশ্চিত খবর চান। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, অনন্ত অপেক্ষার প্রহর ভেঙে শুধু এইটুকু জানাই এখন এই অসহায় বাবা-মায়ের একমাত্র চাওয়া।
সূত্র: আলজাজিরা
বার্তা নিউজ/এফএইচআর










