রংপুর থেকে উঠে আসা এই তরুণের পেশাগত যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। মূলত পড়াশোনার খরচ জোগাতে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন তিনি। সেই কাজই ধীরে ধীরে তাকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ দেখায়। নিজের আয় দিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তিনি একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার সময় কনটেন্ট তৈরি ও দক্ষ লেখক পেতে তাকে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়েই 'অ্যাফপাইলট' তৈরির কথা মাথায় আসে তার।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি 'অ্যাফপাইলট'-এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এআইভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত ব্লগার, কনটেন্ট প্রকাশক ও মার্কেটারদের আর্টিকেল তৈরি, পণ্যের রিভিউ লেখা এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশের কাজ অনেক সহজ করে দেয়। কাজের পুনরাবৃত্তি কমিয়ে সময় ও শ্রম বাঁচানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
তার আরেকটি অভিনব উদ্যোগ হলো 'উইনিং সেলার'। এটি ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার নানা প্রয়োজন একই জায়গায় মেটানোর জন্য তৈরি একটি 'সফটওয়্যার অ্যাজ অ্যা সার্ভিস' বা সাস প্ল্যাটফর্ম। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করাই এর উদ্দেশ্য।
নিজের উদ্যোগগুলো বড় করার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান তৈরিতেও কাজ করছেন শাহিদ। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২০ জন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৫০ জন পেশাজীবী কাজ করছেন। এছাড়া নিজের কাজের অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে এবং আগ্রহীদের বিস্তারিত শেখাতে তিনি 'অ্যাফপাইলট একাডেমি' গড়ে তুলেছেন।
বাংলাদেশ থেকে এমন প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা তৈরি করা তার লক্ষ্য, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও মানুষের কাজে আসে। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা, বাস্তব সমস্যার সমাধান বের করা এবং দক্ষ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়েই নিজের উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিচ্ছেন শাহিদুজ্জামান শাহিদ।
বার্তা নিউজ/এসভিএন














