এর অভ্যন্তরীণ জটিল প্রযুক্তি যেমন ব্রাশবিহীন মোটর, তিনটি সার্ভো মোটর, ব্যাটারি ও কন্ট্রোল সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও এর ওজন মাত্র ৩৪ গ্রাম, যা একবিংশ শতাব্দীর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
এই রোবটিক মৌমাছি হলো জার্মানির ফেস্টো কোম্পানির তৈরি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ছোট আকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বা স্বয়ংক্রিয় উড়ন্ত রোবট, যা পূর্ববর্তী বায়োনিক ড্রাগনফ্লাই বা প্রজাপতির তুলনায় আকারে অনেক ছোট। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ও ফেস্টোর নিজস্ব বায়োনিক লার্নিং নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো অপারেটরের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এককভাবে বা একটি ঝাঁকে একসাথে উড়তে পারে।
আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড (UWB) প্রযুক্তির সাহায্যে কেন্দ্রীয় কম্পিউটার এর পথ নির্ধারণ করে দেয়, আর প্রতিটি মৌমাছি নিজের অবস্থান নিজেই নির্ণয় করে দক্ষতার সাথে উড্ডয়ন করতে পারে। বায়োনিক বা রোবটিক মৌমাছি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার (১৫-২০ হার্জ) ডানা ঝাপটাতে পারে এবং প্রয়োজনে এটি ১৮০ ডিগ্রি কোণে উড়তে সক্ষম। এতে ব্যবহৃত হালকা ব্রাশবিহীন মোটর ও তিনটি সার্ভো মোটর ডানার গোড়ায় এক সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ডানার আকৃতি ও অবস্থান সামঞ্জস্য করে, যা নিচ থেকে উপরে উত্তোলন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা প্রদান করে।
এর স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন, ঝাঁক বেঁধে চলা এবং ক্ষুদ্রাকৃতির রোবটিক্সের অভূতপূর্ব সমন্বয়ের কারণে এই রোবটিক মৌমাছি অদূর ভবিষ্যতে মনুষ্যবিহীন অটোনোমাস টেকনোলজি উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, প্রকৃত মৌমাছি ফুল থেকে যেভাবে মধু সংগ্রহ করে, তেমনি রোবটিক মৌমাছি অদূর ভবিষ্যতে হয়তো তথ্য সংগ্রহ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কিংবা বিপজ্জনক এলাকায় অনুসন্ধানের মতো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
লেখক পরিচিতি:
সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, নাটোর, বাংলাদেশ।
বার্তা নিউজ/আরএসএল





.webp)







