ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা (২৮)। তিনি শিবপুর ইউনিয়নের গাজিরটেক এলাকার মৃত সোলায়মান মিয়ার মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২২) পানাউল্লাহচর এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা প্রিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাসায় গিয়ে টিউশনি করেন। সোমবার সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো বায়েজিদ মিয়ার বাসায় তার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে যান। পড়ানো শেষে ফেরার পথে ভুলবশত তিনি নিজের ছাতাটি ওই বাসায় ফেলে আসেন। সেটি আনতে তিনি পুনরায় সেখানে গেলে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম হাতের দা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
এ সময় শিক্ষিকার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
আহত শিক্ষিকার পরিবারের দাবি, কয়েক দিন আগে অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতার কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষিকা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রিয়া বেগম তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
বার্তা নিউজ/এমএনকে













