মাইকেল মধুসূদন দত্তকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার প্রবর্তক। রবীন্দ্রনাথ সেই আধুনিকতাকে বিচিত্র বিন্যাসের মধ্য দিয়ে সহজ ও সুগমভাবে উপস্থাপন করে সকল বাঙালির হৃদয় স্পর্শ করেছেন। তার ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। আর তার সঙ্গীত সুরপিয়াসী বাঙালির মনে বাজে নানা মাত্রায়।
বাংলা ভাষার প্রতিটি শাখায় তার বিচরণ অনন্য। সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি বাংলা ভাষাকে করেছেন সহজ ও সর্বজনবোধ্য এবং একই সঙ্গে গতিশীল। যে ভাষাকে নিয়ে বাঙালি আজ বিশ্বপরিমণ্ডলে গৌরব করে সে ভাষা সৃষ্টির উৎসশক্তিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ছিলেন অনন্ত জীবন এবং প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের কবি।
১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কবিতা অভিলাষ। সময়ের পরিক্রমায় তার সাহিত্য ভান্ডার ছড়িয়ে পরে বিশ্বময়। আর তিনি হয়ে উঠেন বিশ্বকবি। ১৯১৩ সালে তার গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
কবিতা, কথাশিল্প, নাটক, অনুবাদ, চিত্রকলা, সঙ্গীত, সুর সর্বক্ষেত্রেই তার পথচারিতার পদচিহ্ন প্রবল প্রতাপে লেগে আছে বাঙালির জীবন, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে। তিনি একসঙ্গে উনিশ ও বিশ শতকের দায়কে সামনে রেখে সৃষ্টি করেছেন সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা, সুর প্রভৃতি।
সাহিত্যকর্ম ছাড়াও চিত্রকলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নতুন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে গভীর ভাবনা ছিল, তিনি ক্ষুদ্রঋণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এসব কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রত্যক্ষভাবে সমাজ ও জনকল্যাণের কাজে সরাসরি যুক্ত থেকেছেন। প্রচুর বিদেশ ভ্রমণ তার দৃষ্টিভঙ্গি ও চেতনাকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ব্যাপ্ত করে তুলেছিল। বিশ্বকবি হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, অন্যায়ের প্রতিবাদে থেকেছেন প্রবল সোচ্চার। অন্যায়ের প্রতিবাদে কেবল প্রেরণাই জোগাননি, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পরিত্যাগ করেছেন ব্রিটিশদের দেওয়া ‘নাইটহুড’ খেতাব।
৮০ বছরের কর্মবহুল জীবন কাটিয়ে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার লেখা গান ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। এদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অনেক কবিতা ও গান ছিল সীমাহীন প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধেই শুধু নয়, আমাদের প্রতিটি সংগ্রামে চিরকালই কবির রচনাসমূহ প্রাণের সঞ্চার করে।
বার্তা নিউজ/আরপিকে
.webp)













