মান্না দে’র কণ্ঠের সঙ্গে বাঙালির আবেগের এক গভীর যোগসূত্র তৈরি করেছে ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত গানটিতে উঠে এসেছে বন্ধুদের আড্ডা, জীবনের বিচিত্র পরিণতি এবং হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি। সময়ের ব্যবধান পেরিয়েও গানটি বাঙালির স্মৃতিকাতরতার এক পরিচিত আশ্রয় হয়ে আছে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কফি হাউসের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে গানটির পরিচয়।
শুধু ‘কফি হাউস’ নয়, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘খুব জানতে ইচ্ছে করে’, ‘সে আমার ছোট বোন’ এবং ‘আমি শ্রীশ্রী ভজহরি মান্না’র মতো বহু গানে তিনি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। প্রেম, বিরহ, স্নেহ কিংবা জীবনের টানাপোড়েন বিভিন্ন অনুভূতিকে কণ্ঠে ধারণ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর।
বাংলার পাশাপাশি হিন্দি গানেও মান্না দে রেখে গেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। শাস্ত্রীয় সংগীতের দৃঢ় ভিত্তি নিয়ে রাগপ্রধান গান, রোমান্টিক সুর ও চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় গানে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর গাওয়া ‘পুছো না ক্যায়সে’, ‘অ্যায় মেরি জোহরা জবীন’ ও ‘জিন্দেগি ক্যায়সি হ্যায় পহেলি’ আজও তাঁর সংগীতজীবনের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হিসেবে সমাদৃত।
মান্না দে’র প্রয়াণ বাংলা সংগীতে এক অপূরণীয় শূন্যতা রেখে গেছে। তবু তাঁর গান ফিরে আসে আড্ডায়, নিভৃত অবসরে কিংবা প্রিয়জনকে মনে পড়ার মুহূর্তে। শিল্পীর শারীরিক অনুপস্থিতি পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠ আজও জাগিয়ে রাখে জীবনের গল্প, ভালোবাসা আর হারানো দিনের স্মৃতি।
বার্তা নিউজ/এমএনকে














