সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হকের একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি সামনে আসে। মোকাররম ভবন এলাকায় অবস্থিত বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে নেওয়া বই ফেরত দিতে আট-নয় দিন দেরি হওয়ায় তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে টিএসসিতে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়।
নাবিলা জানান, পূজার ছুটির মধ্যে বই ফেরতের নির্ধারিত তারিখ পড়ায় সময়মতো জমা দিতে পারেননি তিনি। এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকে যাওয়ার বিষয়টি তার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছে।
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ওয়েবসাইটে জরিমানার হার নিয়েও অসংগতি রয়েছে বলে জানা যায়। ওয়েবসাইটের এক অংশে প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০ পয়সা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এক টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, অধ্যাদেশভিত্তিক নীতিমালার ১৪ নম্বর বিধিতে প্রতি বইয়ের জন্য প্রতি সপ্তাহ বা সপ্তাহের অংশবিশেষে ২৫ পয়সা জরিমানার উল্লেখ রয়েছে। নীতিমালায় টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যাংকের মাধ্যমে তা আদায় করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এক টাকা জরিমানা জমা দিতে ব্যাংকে যাওয়া ও লাইনে দাঁড়ানো অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি। অনলাইনে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের নিয়ম প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বা তারও আগে থেকে চলে আসছে। তার মতে, সামান্য অর্থ জমা দিতে ব্যাংকে যাওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক। বিকল্প ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হওয়ায় জরিমানার টাকাও সেখানে জমা দিতে হয়। তবে এ প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের বই ফেরতে সময়ানুবর্তী হতে একধরনের শাস্তি হিসেবেও কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, জরিমানা পরিশোধের পদ্ধতি অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ চালু করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জরিমানা পরিশোধে এখনো সেই সুবিধা যুক্ত হয়নি।
বার্তা নিউজ/ এসভিএন





.webp)






