ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবু তোহার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় তার পরিবারকে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয় আমেরিকার সরকার।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণ হয়ে মিশরে প্রবেশের উদ্দেশ্যে রাফা চেকপোস্টে পৌঁছালে অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনা সদস্যরা তোহাকে আটক করে।
এ ব্যাপারে তোহার ভাই হামজা গার্ডিয়ানকে জানান, আমেরিকার দূতাবাস তাদের গাজা ছাড়ার পরামর্শ দিলে মিশরের দিকে যাত্রা শুরু করেন তাহা। পরে চেকপোস্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। এখন পর্যন্ত তোহার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আবু তোহার বন্ধু ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত কানাডার আইনজীবী দিয়ানা ভূট্টো বলেন, ‘আমেরিকায় জন্ম নেওয়ায় তোহার ছেলে সেদেশের নাগরিকত্ব পায়। এ সুবাদে দূতাবাসের অনুমতিপত্র নিয়ে মিশরের উদ্দেশ্যে স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। চেকপোস্টে তোহার দিকে অস্ত্র তাক করে কোলের সন্তানকে মাটিতে নামিয়ে রাখতে বলেন ইসরাইলের সেনা সদস্যরা। পরে তোহাকে স্ত্রী-সন্তানের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগ কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি।
আবু তোহা একজন আমেরিকান বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী লেখক। তিনি নিয়মিত নিউইয়র্কারের ম্যাগাজিনে লিখতেন। বিশেষ করে উত্তর হাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বসে ইসরায়েলের বোমাবাজির বিরুদ্ধে কবিতা লিখে পরিচিতি পেয়েছেন ফিলিস্তিনের এই কবি।
তোহার কবিত্ব শক্তি নিয়ে দিয়ানা ভূট্টো বলেন, ‘তোহা একজন শক্তিমান কবি। লেখকরা যেসব স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বুড়ো বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, তোহা তা অল্প বয়সেই পেয়েছেন।’
ফিলিস্তিনের সাংবাদিক এবং তোহার আরেক বন্ধু লরা আলবাস্ট বলেন, ‘তোহার কবিতায় ফিলিস্তিনের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। তার কবিতা পড়লে বোঝা যায়, কীভাবে বোমা আর বুলেটের মধ্যে নিত্যকার জীবন কাটায় এখানকার অধিবাসীরা।’
গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় তোহার বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে জাবালিয়ার শরণার্থী শিবিরে দিন কাটছিল তোহা এবং তার পরিবারের। ৬ নভেম্বরে নিউইয়র্কারের এক প্রতিবেদনে বোমা হামলায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তোহা লেখেন, ‘চারদিকে বোমা পড়ছিল আর আমি দ্রুতবেগে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম আমার বাড়ির দিকে। মনে ক্ষীণ আশা ছিল সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও হয়তো আমার কবিতার কয়েকটি বই টিকে থাকবে। হয়তো বোমার আঘাতে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন বইয়ের টুকরোগুলো প্রতিবেশীর জলপাই গাছে গিয়ে পড়েছে। হয়তো সেখান থেকে আর কিছু না হোক কয়েক লাইনের কবিতা উদ্বার করা যাবে। কিন্তু সব গুড়েবালি। সব শেষ। ধ্বংসস্তূপ আর বারুদের গন্ধ ছাড়া কোথাও কিছু নেই।’
শরণার্থী শিবিরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তোহা লিখেছেন, ‘জাবালিয়া ক্যাম্পে বসে আমি যুদ্ধ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছি। মনে হচ্ছে একটি খাঁচার ভেতর আটকা পড়ে গেছি। প্রতিদিন মৃত্যুর প্রহর গুণতে হচ্ছে। শরণার্থী শিবিরে আমাদের দু’টি মাত্র কাজ; নিঃশ্বাস নেওয়া আর বোমার আঘাতে বারবার আতঙ্কে কেঁপে ওঠা।’
নিউইয়র্কার ম্যাগাজিন জানিয়েছে, তোহা যাতে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন; সেজন্য তারা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তোহা বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন; সেটি পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বার্তা নিউজ/আরপিকে
.webp)













