বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও বড় ধরনের জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। দুই বছর আগে যেসব রক্ষণশীল এলাকার ভোটাররা ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, এবার তারাই ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।
রিপাবলিকানদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি টেক্সাসে কয়েক দশকের পরাজয়ের ধারা ভেঙে সিনেটের একটি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে তিন মেয়াদ ধরে দায়িত্ব পালন করা রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও পরাজিত হয়েছেন। কানসাসে প্রায় এক শতাব্দী পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের সমর্থিত সিনেট প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করলেও অর্থনৈতিক সংকটই নির্বাচনে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী জরিপেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক ভোটার এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট এবং ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ চান।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্ত, গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে বাধা এবং উচ্চপদস্থ সরকারি নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়টুকুতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও সীমিত করতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এখন ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে কোনো পরিবর্তন আসছে না। বরং তার মেয়াদের বাকি সময়ে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বার্তা নিউজ/আরএসএল













