মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সুনীল কুমার শর্মা এবং তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহীদকে একটি বিশাল অপরাধী চক্রের হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই চক্রটি মূলত ইরানের তেল বহনকারী জাহাজগুলোকে জাল পতাকা এবং ভুয়া সামুদ্রিক প্রশংসাপত্র দিয়ে সহায়তা করত। ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের হয়ে কাজ করা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজগুলোকেও তারা এই সুবিধা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'-এর আওতায় এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ঘোষণা করা হয়, যার মূল লক্ষ্য হলো তেল রপ্তানি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইরানের রাজস্ব আয়ের পথ বন্ধ করা। শর্মার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যবসার পরিচালক হিসেবে কাজ করা অশ্বিনী কুমার ধীমান এবং যতিন্দর সিং নামের আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি ভারতে অবস্থিত নয়টি প্রতিষ্ঠানের নামও এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন ট্রেজারি।
মার্কিন ট্রেজারির তথ্য অনুযায়ী, শর্মা এবং শহীদ চণ্ডীগড় থেকে এই চক্রটি পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের ছদ্মবেশ ধারণ করে ভুয়া সামুদ্রিক রেজিস্ট্রি তৈরি করেছিলেন। তারা এমন কিছু ওয়েবসাইট তৈরি করেন যা বিনা অনুমতিতে বিভিন্ন দেশের নামে জাহাজের নিবন্ধন, পতাকা প্রদান এবং নাবিকদের প্রশিক্ষণের মিথ্যা দাবি করত। তাদের এই কার্যক্রম ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়, যখন তারা প্রথম ডোমিনিকার সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের ছদ্মবেশ ধারণ করার চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে শর্মা সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফ্রানদিরি মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল শিপ রেজিস্ট্রি পিটিই লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন এবং ফ্রানদিরি কর্তৃপক্ষের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও ইরানের তেল বহনকারী জাহাজগুলোকে নিবন্ধন সুবিধা দেয়া অব্যাহত রাখেন।
এই চক্রটি আরুবা, গায়ানা, মালি, মোজাম্বিক, মালাউই, সিন্ট মার্টেন এবং তিমুর লেস্তের মতো দেশগুলোর পক্ষে সামুদ্রিক নিবন্ধন পরিষেবা দেয়ার মিথ্যা দাবি করত। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রানিক টেকনোলজিস ইন্ডিয়া, আর্যাবর্ত শিপস ম্যানেজমেন্ট, প্রম্পট ট্রাভেলস, পলিনেশিয়া মেরিটাইম, আলোয়ার্য ফাইন্যান্স ইত্যাদি। জাল শিপ রেজিস্ট্রি স্থাপনের জন্য সেন্ট্রানিক টেকনোলজিস ইন্ডিয়াকে ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীতে শর্মার ওপর নজরদারি বাড়লে তার স্ত্রী শহীদ ব্যবসার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন।
ইরানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, ‘যেমনটা আমরা বহুবার বলেছি, অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের অধীনে, আপনি হয় আমাদের সাথে আছেন, নাহয় আমাদের বিরুদ্ধে।’। যারা তেহরানকে সমর্থন করছে তারা কোনোভাবেই মার্কিন পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে পারবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন। একই দিন ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক পোগো রেকর্ড সার্ভিসেস ইনকর্পোরেটেডের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
বার্তা নিউজ/এসভিএন













