এদিকে এই সংকটের মধ্যেই সামনে এসেছে উয়েফার একটি বিকল্প পরিকল্পনা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি নাকি ফিফা বিশ্বকাপের বিকল্প হিসেবে একটি ‘মিনি বিশ্বকাপ’ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শর্ত একটাই আগামী মার্চের নির্বাচনে যদি ইনফান্তিনো আবারও ফিফা সভাপতির পদে বহাল থাকেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফিফার ভেতরে এই অস্থিরতা প্রকাশ্যে আসে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইনফান্তিনো সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো সমর্থন দেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
আগামী মার্চে ফিফা সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অনেকের ধারণা, সেখানে ইনফান্তিনোর অবস্থান আগের তুলনায় দুর্বল। তবুও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না উয়েফা। তাই তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে বিকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
স্কাই স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের নাম ‘গ্লোবাল নেশনস লিগ’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আঞ্চলিক বাছাইপর্ব শেষে আটটি দল নিয়ে মূল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ইউরো বা বিশ্বকাপ না থাকা বিজোড় বছরগুলোতে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সাতটি আলাদা স্তরে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মূল পর্ব শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
শীর্ষ স্তরের আসরে ইউরোপ থেকে তিনটি, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দুটি এবং আফ্রিকা, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা থেকে একটি করে দল অংশ নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পটির নকশা প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০১৭ সালে। তবে ফিফার ক্লাব বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এখন ইনফান্তিনো আবারও ক্ষমতায় থাকলে সেই পরিকল্পনা নতুন করে বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারে উয়েফা।
বার্তা নিউজ/আরএফই












