চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর অভিযোগ ওঠে, রেফারির সিদ্ধান্তে লিওনেল মেসি ও তাঁর দল বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। এ কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ফিফা কাকে রেফারির দায়িত্ব দেয়, সেদিকে ফুটবল বিশ্বের বিশেষ নজর ছিল।
নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের এক দিন আগে অফিশিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই ম্যাচে এলফাতকে সহায়তা করবেন তাঁরই স্বদেশি দুই সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। এছাড়া চতুর্থ রেফারি হিসেবে ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দানিয়েলে বিনদোনি দায়িত্ব পালন করবেন।
৪৪ বছর বয়সী এলফাত চলমান আসরে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান ও উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচের পর শেষ ষোলোতেও বাঁশি ছিল তাঁর হাতে। সেই ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে।
ইউএসএ টুডের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোয় জন্মগ্রহণ করা এলফাত ২০০১ সালে ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে টেক্সাসের বাসিন্দা এই রেফারি ২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ২০১৬ সালে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা এই রেফারির বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ২০২২ সালের কাতার আসরে। কাকতালীয়ভাবে সেই আসরে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালেও তিনি চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন।
দুবার এমএলএস বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া এলফাত এর আগে ২০২২ সালের এমএলএস কাপ ফাইনাল এবং ২০২৬ সালের কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসর সামলেছেন। আর এবার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে বাঁশি বাজানোর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছেন।
বার্তা নিউজ/আরপিডি













