৫৬ বছর বয়সে বিদায় নেওয়া এই গিটার সম্রাট ইলেকট্রিক গিটারের মূর্ছনায় বাংলা ব্যান্ডসংগীতে যে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন, তা আজও কয়েক প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ার এক বনেদি ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। তার পারিবারিক ডাকনাম ছিল রবিন। পরিবারে সংগীতের কোনো চর্চা না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার প্রবল ঝোঁক ছিল। বাবার উপহার দেওয়া একটি গিটার হাতে নিয়েই সংগীতাঙ্গনে তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য যাত্রার সূচনা হয়।
১৯৭৭ সালে সংগীতজীবন শুরু করার পর ১৯৭৮ সালে তিনি যোগ দেন ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে। এরপর আশির দশকে ‘সোলস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে টানা এক দশক কাজ করেন। ১৯৯১ সালে সোলস ছেড়ে আইয়ুব বাচ্চু নিজেই গঠন করেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’। প্রথমে ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’ নাম রাখা হলেও একই নামে অস্ট্রেলিয়ায় অন্য ব্যান্ড থাকায় পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।
শুধু ব্যান্ডসংগীত নয়, চলচ্চিত্রের গানেও আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। ১৯৯৯ সালে ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রে তার গাওয়া শিরোনাম সংগীতটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় একটি গান। এছাড়াও ‘লাল বাদশা’, ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ‘ব্যাচেলর’, ‘রং নাম্বার’, ‘চোরাবালি’, ‘টেলিভিশন’ ও ‘এক কাপ চা’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন এই রকতারকা। ১৯৮৬ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ এবং ১৯৯২ সালে এলআরবির প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এরপর ‘কষ্ট’, ‘ময়না’, ‘সুখ’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘ফেরারী মন’-এর মতো অসংখ্য সফল একক ও ব্যান্ড অ্যালবামের পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকে ‘ক্যাপসুল’ ও ‘স্ক্রু ড্রাইভার’-এর মতো জনপ্রিয় মিশ্র অ্যালবামেও কাজ করেছেন তিনি। শারীরিক প্রস্থান ঘটলেও অগুনতি শ্রোতার ভালোবাসায় আইয়ুব বাচ্চু তার সৃষ্টির মাঝেই অমর হয়ে আছেন।
বার্তা নিউজ/এফএইচআর














